আগামী মুদ্রানীতিতে কর্মসংস্থানকেই প্রাধান্য দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

ফারুক মজুমদার (ডেস্ক রিপোর্ট) : কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগামী মুদ্রানীতি প্রণয়নে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে এবং এতে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগকে যাতে অধিক কর্মসংস্থান সম্ভব হয়ে ওঠে। গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে প্রস্তুতিমূলক এক বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ব্যাংকগুলোর জেনারেল ম্যানেজাররা সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা করেন। মুদ্রাস্ফীতিকে বাগে এনে উৎপাদনক্ষম এক মুদ্রানীতি প্রণয়নে তারা একমত হন। আগামী জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণার কথা রয়েছে। ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস

তবে নতুন মুদ্রানীতি হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা আভাস দিয়েছেন সিআরআর বা নগদ রিজার্ভের প্রয়োজনীয়তা ও রেপোসহ নীতির হার অপরিবর্তিত থাকবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতে আরো অধিক ঋণের সুযোগ সৃষ্টি ছাড়াও কৃষি ঋণকে বৃদ্ধির এক জোড়ালো প্রয়াস নেয়া হবে নতুন মুদ্রানীতিতে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশ বাড়াতে পারলে তা অর্থনীতির ৭.৮০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে ঋণের গুণগতমান নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি ও তত্ত্বাবধান আরো শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গত অক্টোবরে বেসরকারিখাতে ঋণ বৃদ্ধির ছিল ১৪.৭২ শতাংশ যা এর আগের বছর ছিল ১৪.৬৭ শতাংশ। গত আগস্টে এ হার ছিল ১৪.৯৫ শতাংশ। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ বৃদ্ধির যে ১৬.৮ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল তা থেকে এ বৃদ্ধি ২ শতাংশ কম।

নতুন মুদ্রানীতিতে খেলাপি ঋণ হ্রাসে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর খেলাপি ঋণের পরিমান দাঁড়ায় ৯৯ হাজার ৩’শ কোটি টাকারও বেশি। অথচ এর আগের বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত এর পরিমান ছিল ৭৪ হাজার ৩’শ কোটি টাকা। খাদ্য উৎপাদন সন্তোষজনক হওয়ায় এক্ষেত্রে মুদ্রাস্ফীতি আরো হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আগামী মুদ্রানীতিতে পুঁজি বাজার, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ের বিষয়টি পর্যালোচনা করে তা শেয়ারবাজার সহায়ক করার ওপর জোর দেয়া হয়। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর্থিক খাতে প্রবেশের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা দূর করতে সহায়তা করবে বলে সিদ্ধান্ত হয় গত সোমবারের ওই বৈঠকে।