ভোটের আগের রাতটি প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের আতঙ্কে থাকতে হয়: এম সাখাওয়াত হোসেন

মনোয়ার হোসেন মুন্না (ডেস্ক রিপোর্ট): প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের আওতায় ব্যালট পেপার ও বক্স রক্ষিত থাকায় ভোটগ্রহণের আগের রাতটি তাদের আতঙ্কে থাকতে হয়। এই সঙ্কা নিয়ে তাদের প্রান্তিক অঞ্চলেও রাত কাটাতে হয় বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।

এম সাখাওয়াত হোসেনের ভাষায়, বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিক প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন এবং সহিংস ২০১৪ সালের নির্বাচন ও পরবর্তী সহিংস স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারদের ওপর যে ধরনের হামলা-ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অনিয়ম করতে বাধ্য করা হয়েছে, সেসব কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে এবারের আতঙ্ক বেশ প্রসারিত মনে হচ্ছে। এমন কয়েকজনের আত্মীয়স্বজন আতঙ্কিত হয়ে তাদের করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তাদের হতাশ হতেই হয়েছে।

‘প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের জন্য আতঙ্কের সময়টি ভোটগ্রহণের আগের রাতটি, যখন তাদের আওতায় রক্ষিত ব্যালট পেপার ও বক্স নিয়ে শঙ্কিত বিত্তের প্রান্তিক অঞ্চলে রাত কাটাতে হয়। অহরহ অভিযোগ এবং তথ্য প্রকাশ পায়, শক্তিশালী ও প্রভাবশালী প্রার্থীদের হয়ে আগের রাতেই ব্যালট বাক্সে জোরপূর্বক ব্যালট পেপার ঢুকানো হয়। এসব ক্ষেত্রে একটি নির্বাচন কেন্দ্রে প্রদত্ত অতিরিক্ত ব্যালট বাক্স, যা প্রিসাইডিং অফিসারের হেফাজতে থাকে, বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ওঠে যে, সেগুলো দখল ও ব্যবহার হয়ে থাকে। এসব নির্বাচনী সামগ্রী রক্ষার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালনের অভিযোগও এন্তার গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে আসছে।

এম সাখাওয়াত হোসেন মনে করেন, ব্যালট পেপার ছিনতাই অথবা ভোটগ্রহণের পূর্ব রাতে জোর করে পেপার অতিরিক্ত বাক্সে ভর্তি করার অভিযোগ ওঠে। এ ক্ষেত্রে সত্যিকারের ব্যবস্থা অবশ্যই রয়েছে। পুনঃগণনা করার সময় ব্যালটের সংরক্ষিত মুড়িতে ভোটারের সই এবং ভোটার নম্বর অবশ্যই দেখা প্রয়োজন। এমনকি আদালতে অভিযোগের মাধ্যমে যে কোনো প্রার্থী অবশ্য বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি করতে পারেন। ব্যালটের মুড়ি নিরীক্ষণ করলেই জালভোটের অভিযোগ খতিয়ে দেখা সম্ভব।