গান্ধী ও বঙ্গবন্ধু রাজনীতিতে ধর্মকে ব্যবহার করেননি: কৃষিমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক

নিউজ বিডিডট নেট : পৃথিবীজুড়ে মানুষের স্বাধীনতা ও অধিকার আন্দোলনের অন্যতম অনুপ্রেরণা অহিংস মতবাদে বিশ্বাসী মহাত্মা গান্ধী। অন্যদিকে বাঙালির অধিকার রক্ষায় নেতৃত্ব দানকারী জাতির পিতা অহিংসপ্রাণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। মহাত্মা গান্ধীর সার্ধশত জন্মজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে বিশেষ আলোচনানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় রাজধানীর শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার সকালে। গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট আয়োজিত এ আলোচনানুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাশ ও সংসদ সদস্য নারায়ন চন্দ্র চন্দ। মহাত্মা গান্ধী ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ইতিহাসভিত্তিক আলোচনা করেন ইতিহাসবিদ প্রফেসর মুনতাসীর মামুন ও বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম এর প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গান্ধী আশ্রম বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান সাংবাদিক স্বদেশ রায়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কৃষিমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গান্ধীজী ও বঙ্গবন্ধু দুজনই ছিলেন মহামানব। মহৎ আত্মা হিসেবে সারা ভারতের মানুষ গান্ধীজীকে মহাত্মা উপাধী দিয়েছে। এখনও সেখানের মানুষ তাকে বাপুজী বলে সম্মোধন করে। অতি সাধারন জীবন-যাপনের মধ্যদিয়ে তিনি চলতেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সে ব্যারিষ্টারী করতে যান। তিনি বর্ণবৈশম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন। তিনি অহিংস আন্দোলনে বিশ্বাসী ছিলেন। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধুর কথা বলতে গেলে প্রথমেই চলে আসে তার ৭ মার্চের ভাষণ। গান্ধীজীরও ছিল একই কথা, যারা যারা তোমার রক্ত নিতে চায় যার কাছে অস্ত্র আছে তাকে তুমি হত্যা করবে না। তুমি মানসিকভাবে প্রস্তুত হও তোমার দেশপ্রেমে তার কাছে জীবন দিতে।
মুনতাসীর মামুন বলেন, ১৯৪৮ সালে বঙ্গবন্ধু যখন আন্দোলন শুরু করেছিলেন তখন তার বয়স ৩০ বছর হয়নি। এই ৪৮ থেকে ৭১ পর্যন্ত যতগুলি গোয়েন্দা রিপোর্ট তারমধ্যে বঙ্গবন্ধুর উপর ৪০ এর উপরে পাই। সেই তরুনকে তখনের পাকিস্তান সরকার প্রধান শত্রু রূপে গন্য করেছিল। প্রতি সপ্তাহে প্রতিটি রিপোর্টে শেখ মুজিবুর রহমান কি করছেন তার উপর রিপোর্ট। এত রিপোর্ট কিন্তু তার সমসাময়িক যারা সিনিয়ার তাদের উপর নেই।
অন্যদিকে গান্ধীজী জীবনের একটি অংশ সময় জেলে কাটিয়েছেন, বঙ্গবন্ধুও জেলে কাটিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু ১৯৬২ সালে প্রথম নেহেরুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন, কিভাবে স্বাধীন করা যায় দেশকে। তখন ভারত মানেই হচ্ছে পাকিস্তানের প্রধান শত্রু। সেই সময়ে একজন ভারতের সাহায্য চাইছেন এই উপলব্ধী কিন্তু অনেকেই করতে পারেনি। লাল বাহাদুর শাস্ত্রী প্রথম আশ্বাস দেন যে যদি এরকম কোন পরিস্থিতি হয় তাহলে তারা সাহায্য করবেন। বঙ্গবন্ধুর ১৯৫৯ সালে ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে যোগাযোগ হয়। তারপর ৭১ পর্যন্ত তিনি পরিকল্পনা মাফিক কাজটা করেছেন। সুভাষ বসু যেমন স্বাধীনতার জন্য ব্রিটিশ শক্তির সাহায্য চেয়েছেন বঙ্গবন্ধুও চেয়েছেন কিন্তু তিনি যখন আন্দোলনটা করেন তখন তিনি গান্ধীর স্টেটিভটি বেছে নিয়েছেন যাতে কখনও তাকে বিচ্ছিন্নতাবাদী বলা না যায়। অসহযোগ আন্দোলন যখন বাংলাদেশে শুরু হয়, পরপর দুদিন হরতাল আহ্বান করেন এবং ৭ মার্চ জানান যে কি হবে। মার্চের ২ তারিখে ফরমালি শুরু হয়েছে অসহযোগ আন্দোলন। বঙ্গবন্ধু তখন বলেছিলেন অহিংস অসহযোগ আন্দোলন করতে হবে এবং শতর্ক থাকতে হবে যেন কোন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা না হয়। আমরা দেখেছি ১৯৪৬ সালে গান্ধীজী নোয়াখালীতে এসেছিলেন। বঙ্গবন্ধু অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের একটা বিকল্প তিনি ভেবেছিলেন যেটা গান্ধীজী ভাবেননি। আমাদের এখানে যে অসহযোগ আন্দোলন হয়েছে এতে সবার জন্য একটা স্পেস দেওয়া হয়েছিল।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*